কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (কুকসু) নিয়ে প্রশাসন 'টালবাহানা' শুরু করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানা অজুহাতে কুকসু গঠনের কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করছে এবং পরিকল্পিতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে। এই প্রশাসন জাতীয় নির্বাচনের আগে কুকসু নির্বাচন দেবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা
গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২৯ জুলাই কুকসু গঠনের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করে, যাদের তিন মাসের মধ্যে প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২৪ সেপ্টেম্বর গঠনতন্ত্র প্রণয়নের জন্য নতুন কমিটি করা হয়। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও বারবার সময় বাড়িয়ে ২৯ অক্টোবর খসড়া গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ৪ নভেম্বর, তবে আহ্বায়ক কমিটি জানিয়েছে, এসব মতামত পর্যালোচনায় তাদের আরও ৫ কর্মদিবস সময় লাগবে।প্রত্যেক ধাপে বারবার সময় বাড়ানোয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে কুকসু নির্বাচন না দেওয়ার জন্য তারা এত ধীর গতিতে আগাচ্ছে।
এ বিষয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এ. জেড. এম ফারুক নাহিয়ান বলেন, "২৯ জুলাই সর্বপ্রথম কমিটি করা হয়। তখনই তো গঠনতন্ত্রের কাজ এগিয়ে নেয়া যেতো। নতুন কমিটি হলো। সেই কমিটিও ৭ কর্মদিবস সময় পেলো, তারপর ১০ কর্মদিবস। এখন সেটা আবার ১৫ কর্মদিবসে রুপান্তর হচ্ছে। খুব সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কুকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমের সময় বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে করি আমরা, কুবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন অনেক বেশি সচেতন। প্রত্যেকটা কার্যক্রমে যদি এমনভাবে সময় পেছানো হয় আমরা আমাদের সমাধান রাজপথেই খুঁজে নেবো।"
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওসমান গণি বলেন, "আমরা মনে করছি, প্রশাসন একটি পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে( যারা ছাত্র সংসদ নির্বাচন মুখী না) বার বার প্রতি ধাপে সময় ক্ষেপন করছে।"
পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওসমান গণি বলেন, "আমরা মনে করছি, প্রশাসন একটি পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে( যারা ছাত্র সংসদ নির্বাচন মুখী না) বার বার প্রতি ধাপে সময় ক্ষেপন করছে।"
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহিম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (কুকসু) নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একের পর এক সময়ক্ষেপণ, সময় বাড়ানো এবং “রিভিউ” নামের অজুহাত এখন শিক্ষার্থীদের কাছে আর বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। প্রশাসনের এই টালবাহানা আসলে নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করারই কৌশল যাতে জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে কুকসু নির্বাচন পেছানো যায়। জাতীয় নির্বাচনের আগে কুকসু না হলে, রাজনৈতিক অস্থিরতার অজুহাতে এই প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘদিনের জন্য স্থবির হয়ে যেতে পারে যা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, "কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুকসু হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও জনপ্রতিনিধি প্ল্যাটফর্ম। প্রশাসনের একের পর এক বিলম্ব আমাদের মধ্যে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি করছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে অবিলম্বে কুকসু নির্বাচন আয়োজিত করুন। শিক্ষক হিসেবে আমরা আপনার পাশে আছি; ন্যায়, নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তীতায় নির্বাচন নিশ্চিত করুন; প্রয়োজনে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে আমাদের অধিকার রক্ষা করব।"
গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন বলেন, "আমরা আগামী মঙ্গলবারের (১১ নভেম্বর) মধ্যে মিটিং সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি এবং চেষ্টা করছি বহিস্থ মেম্বার ওনাকেও আনার জন্য। আমাদের মেইলে যে মতামতগুলো এসেছে সেগুলো ফাইলআপ করেছি। এগুলো থেকে কি কি নেওয়া যায়, কতটা ঠিক হবে কতটা শিক্ষার্থীদের জন্য ঠিক হবে না তা পুরোটা বিবেচনা করে করতে হবে। আর একটু সময় না দিলে সবাইকে পাওয়া যাবে না, তাই আমরা চেষ্টা করবো আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে মিটিং করতে।"
তিনি আরো বলেন, "মঙ্গলবার সংশোধনী এনে আমরা উপাচার্য বরাবর পাঠিয়ে দিব। তখন ওনারা বলতে পারবেন কতদিনের মধ্যে কুকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবেন।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
২১ দিন আগে রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫
