দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার
কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।প্রশ্নে সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, সরকার বলছে দেশে জ্বালানির সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবে অনেক পাম্পে গ্রাহকদের ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি মোটরসাইকেলে চিহ্ন দিয়ে পুনরায় তেল নেওয়া ঠেকানোর ঘটনাও ঘটছে।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গত বছরের মার্চ মাসের মতোই চলতি বছরের মার্চ ২০২৬-এ সমপরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। কৃত্রিম সংকটের জন্য দায়ী অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি। পাশাপাশি, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এবং অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতাও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। তিনি আরও জানান, পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়ার বা মোটরসাইকেলে চিহ্ন দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই।
সরকারি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিপিসি থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। অবৈধ মজুত ঠেকাতে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯,১১৬টি অভিযানে ৩,৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি জব্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।
এছাড়া জ্বালানি বিপণনে স্বচ্ছতা বাড়াতে ঢাকা মহানগরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি কেনার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
৪ দিন আগে শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬
