Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

শিক্ষা

কুবিতে ছাদে ওঠাকে কেন্দ্র করে জুনিয়রকে গালিগালাজ-থাপ্পড় মারার অভিযোগ

কুবি প্রতিনিধি:
৫ ঘন্টা আগে বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
# ফাইল ফটো




কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে ছাদে ওঠাকে কেন্দ্র করে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ ও থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।


ভুক্তভোগীরা হলেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরাফাত (লোক প্রশাসন), পারভেজ সরকার ও আশরাফুল ইসলাম (মার্কেটিং)। তারা বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।


'অভিযুক্ত'রা হলেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী তাহসিন, রোহিত পাল, সুমিত সরকার (বাংলা), ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তুহিব মাহমুদ ও জুবায়ের জোয়াদ্দার বর্ষণ (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ)। বাকি একজনের নাম জানা যায়নি। তারাও একই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।


ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থী হলের ছাদে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা হঠাৎ পেছন থেকে এসে তাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জুনিয়ররা সিনিয়রদের দেখে সালাম দিলেও, 'তোদের পারমিশন দিল কে ছাদে উঠার?' তুই কত নম্বর রুমে থাকিস?' তুই তো ৫০৩ এ উঠার কথা না, তোরে ওখানে কে উঠালো?' এমন প্রশ্ন তুলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।


পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের জন্য ভুক্তভোগীরা হলের নিচতলায় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইফ হাসানকে (১৫তম ব্যাচ) জানাতে যাচ্ছিলেন। তন্মধ্যেই ইমরানসহ (১৬তম ব্যাচ) কয়েকজন সিনিয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আরাফাত ঘটনাটি তার বন্ধুদের জানালে তারা কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলতে যান। তবে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


অভিযোগ রয়েছে, আরাফাত ঘটনাটি খুলে বলার সময় জুবায়েরকে ‘ভাই’ সম্বোধন না করাকে কেন্দ্র করে তুহিব মাহমুদ ভুক্তভোগী আরাফাতকে থাপ্পড় মারেন। এ সময় উপস্থিত ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভুক্তভোগীদের ধাওয়া দিয়ে হলের পুরাতন গেইট থেকে পূর্বদিকের ওয়াশরুম পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করেন। পরে অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, “আমরা ছাদে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ তারা এসে প্রশ্ন করে কে পারমিশন দিয়েছে। এরপর প্রায় ৩০ মিনিট আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এটা এক ধরনের বলতে গেলে ‘ম্যানার শেখানোর’। কেন ছাদে উঠেছি? পারমিশন কে দিয়েছে? এসব বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।"


আরেক ভুক্তভোগী পারভেজ সরকার বলেন, “এমন ভাষায় মা-বাবাকে তুলে গালাগালি করা হয়েছে, যা কোনো সুস্থ মানুষের মুখে এমন গালি দেওয়া সম্ভব না। কী ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছে তা বলার মতো না।”


এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাজী তাহসিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।


অভিযুক্ত তুহিব মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। হলে টুর্নামেন্ট নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।” থাপ্পড় মারার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আরাফাতকে থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটেছে।


অন্য অভিযুক্ত জুবায়ের বলেন, “তিনজনের মধ্যে একজন কিছুটা বেয়াদবি করছিল। আমি কথা বলে চলে আসি। পরে শুনি কথা কাটাকাটি হয়েছে, তবে এরপর কী হয়েছে জানি না।” তবে কী ধরনের বেয়াদবি করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।


অভিযুক্ত সুমিত সরকার বলেন, “আমি কাউকে গালাগালি করিনি। কারো নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করা র‍্যাগিং হতে পারে না।”


আরেক অভিযুক্ত রোহিত পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বক্তব্য নেওয়ার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


এ বিষয়ে সাইফ হাসান বলেন, "আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, খাওয়া-দাওয়া করতে উপরে আসছিলাম। পরে শুনতে পারি যে নিছে ঝামেলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কে কি করছে, আমি মুখে শুনেছি আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি উভয়পক্ষের সাথেই কথা বলেছি। কিন্তু তাদের কথা মধ্যে মিল পাইনি।" 


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে হল প্রভোস্ট বরাবর মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লিখিত অভিযোগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তারা।


এ বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “গত রাতেই হাউস টিউটররা বিষয়টি নিয়ে বসেছেন। আমরা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে।”

৫ ঘন্টা আগে বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন