Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সারাদেশ

মুরাদনগরে আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার:
৯ ঘন্টা আগে রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬
# ফাইল ফটো



গত ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলটির স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে থাকলেও কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে প্রকাশ্যেই ঠিকাদারি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে, এমন অভিযোগ উঠেছে।


অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও আছাদরগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং রাজপথের মিছিলেও আওয়ামীলীগের পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন। তবে সরকার পতনের পরও তার ঠিকাদারি কার্যক্রমে কোনো ছেদ পড়েনি বলে দাবি স্থানীয়দের।


স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, আছাদরগর এলাকার করিম বর্তমানে একের পর এক রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ করছেন। এ অবস্থায় জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তার কথিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে তিনি এখনো সরকারি বা স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি করছেন, তা নিয়ে এলাকায় সমালোচনা ও ক্ষোভ রয়েছে।


এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বদিউল আলম মুন্সী। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আব্দুল করিমের ঠিকাদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।


কালাডোমর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় যারা ছাত্রদের বিরুদ্ধে ছিলেন, তারা এখনো কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং ঠিকাদারি কাজ করছেন—এটি আমাদের কাছে বিস্ময়কর।”


স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও তাদের বিরোধিতা করার অভিযোগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে কোন প্রক্রিয়ায় রাস্তা ও কালভার্টের কাজ পাচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার ঠিকাদারি কার্যক্রমের বৈধতা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।


এ নিয়ে লাজৈর, দৈয়ারা, গ্রান্দ্রা, তেলুয়া মাইনকার একাধিক স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি ও এনসিপির নেতা কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করিমকে অত্র ইউনিয়নের কিছু বিএনপির নেতা আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আর এ কারনেই করিম একক প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক কাজ ঠিকাদারি করে যাচ্ছেন। তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন প্রশাসন যেন তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।


তবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার মুঠোফোন নাম্বারে একাধিক কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) সাকিব হাছান খান (সহকারী কমিশনার ভূমি) বলেন, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিলো না। আমরা যেহেতু জেনেছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।


স্থানীয়দের প্রশ্ন—জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই না করে কীভাবে উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকে? বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

৯ ঘন্টা আগে রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন