Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

বিশ্ব

ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটি টার্গেট করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ১৯তম ধাপের হামলা

ডেস্ক রিপোর্টঃ
৩ দিন আগে সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬
# ফাইল ফটো




মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা এবং কৌশলগত ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালাচ্ছে ইরানের ইসলামি রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

আইআরজিসি দাবি করেছে, এই অভিযানে তারা

নিজেদের প্রযুক্তিতে তৈরি আগের বছরের তুলনায় আরও উন্নত ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। তাদের মতে, ধারাবাহিক হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের সংখ্যা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা শত্রুপক্ষের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

হামলার তীব্রতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে সতর্ক করে আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইয়িনি বলেন, ইরানের এই প্রতিশোধমূলক হামলা আগের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় আরও বিধ্বংসী ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। তিনি শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে বলেন, সামনে তাদের জন্য আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর এবং ইসরায়েলি সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হচ্ছে। চলমান সংঘাত এখনো প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না; বরং ইরানের পক্ষ থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ইরানের জাতীয় পতাকা নামিয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। দেশটির সংস্কৃতিতে কালো পতাকা গভীর শোক এবং প্রতিশোধের সংকল্পের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতীকী পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

মূলত গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো বিভিন্ন অভিযানের জবাব হিসেবেই তেহরান এই ১৯তম ধাপের হামলা শুরু করেছে। সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও সামরিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এ অঞ্চলের বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত কতটা বিস্তৃত হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

৩ দিন আগে সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন