Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

লিড নিউজ

৩১ নাবিকসহ আটকা বাংলাদেশি জাহাজ, কূটনৈতিক সহায়তা চাইলো বিএসসি

ডেস্ক রিপোর্টঃ
১ দিন আগে সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬
# ফাইল ফটো



মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)-এর একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির কাছে আটকা পড়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেও জাহাজটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

জানা গেছে, বিএসসির মালিকানাধীন ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি

পার হয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করে। তবে ওই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জাহাজটি শেষ পর্যন্ত পথ পরিবর্তন করে আবার পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যায়।

জাহাজটির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সহায়তা চেয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিএসসি। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ম্যারিটাইম ট্রাফিক–এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা উপকূলের বহির্নোঙর এলাকায় অবস্থান করছে।

বিএসসি সূত্র জানায়, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল জাহাজটি। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে তা জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। তবে ঠিক পরদিনই ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালালে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালালে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় জাহাজটি নতুন পণ্য বহনের পরিকল্পনা বাতিল করে নিরাপদে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সেই অনুযায়ী হরমুজের দিকে যাত্রা শুরু করলেও পথে নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ায় জাহাজটি আর অগ্রসর হয়নি।

জাহাজের নাবিকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ৬৬ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছালে ওই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়। একই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ড নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে জাহাজটি পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে।

‘এমভি জয়যাত্রা’র ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। সেখানে কয়েকটি জাহাজে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে। গত মঙ্গলবার একটি চীনা জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে, তবে গত দুই দিন কোনো জাহাজের চলাচল দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য মুম্বাই নির্ধারণ করেছে ভাড়াকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই শারজা বন্দরের অদূরে জাহাজটি নোঙর করে রাখা হয়েছে।

বিএসসি এমডি মাহমুদুল মালেক জানান, জাহাজের সব নাবিক সুস্থ আছেন এবং তাদের মনোবল ভালো রয়েছে। জাহাজে পর্যাপ্ত খাবার, সুপেয় পানি এবং জ্বালানি মজুত আছে। কয়েক মাস পর্যন্ত এসব নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। নাবিকদের নিরাপদে থাকার জন্য নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জাহাজটি আপাতত শারজার নোঙর এলাকায় রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কাতার থেকে নতুন করে পণ্য বহনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে অবস্থানরত বাংলাদেশের জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ওই হামলায় জাহাজটির প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন এবং পরে আটকে পড়া ২৮ নাবিককে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিষয়ে তেহরানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার দুবাই উপকূলের কাছে ‘সোর্স ব্লেসিং’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে আগুন লাগলেও জাহাজের নাবিকেরা প্রাণে বেঁচে যান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে বর্তমানে প্রায় ১১০টি তেলবাহী ট্যাংকারসহ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশ্ব শিপিং কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী জো ক্রামেক বলেন, সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও নাবিকেরা এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।

১ দিন আগে সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন