Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিক্ষা

নারীকে "পতিতা" বললেন কুবি শিক্ষার্থী, সমঝোতায় জবি ছাত্রদল নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট:
১ দিন আগে সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬
# ফাইল ফটো


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক নারীকে প্রকাশ্যে ‘পতিতা’ বলে সম্বোধন এবং একাধিক নারীকে অবমাননাকর ভাষায় মন্তব্য করার অভিযোগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদল নেতার হস্তক্ষেপ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক ব্যবহারকারী।


অভিযোগে বলা হয়েছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী প্লাবন আহমেদ (প্রোফাইলে উল্লেখিত নাম), যার প্রকৃত নাম এহসানউল ইসলাম বলে দাবি করা হয়েছে, একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এক নারীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “তোরে পতিতা কইলাম ব্যবস্থা নিস। প্রোফাইলে যাইয়া তো দেখছস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, যা ভিসির কাছে অভিযোগ দে।” এ মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।


কানিজ ফাতেমা ছন্দ (Kaniz Fatima Chhanda) নামে একটি আইডি থেকে অভিযুক্তকে নিয়ে দুপুর ১২ টায় এবিষয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে বেশ কয়েকটি স্ক্রিনশটও যুক্ত করা হয়।


আরেকটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, তিনি একই আইডি থেকে মন্তব্য করেন,  'কথা যখন তুলছসই কই কিছু। হিট কি শুধু পোলাগোেরই আছে তোগোর নাই। পার্কে গিয়া ছাতার তলে কি লুডো খেলো??? বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের চিপাই কি গ্রুপ স্টাডি করতে যায় মেয়েরা ছেলেদের সাথে। তখন ছেলেটা কিছু করলেই ধর্ষণ করছে নাকি!!! এই মেয়েরা ছেলেগুলার হিট তুইলা দিয়া নিজের হিট মিটিগেট করে বলবে যে ধর্ষণ করছে। আহা রে!!! এখন ঐসব মেয়েদেরকে পতিতা বলবে না তো কি হুজুরনি বলবে নাকি।'


অভিযোগ উত্থাপনকারী আইডির মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মূল পোস্টটি অন্য একজনের নারীবিদ্বেষী মন্তব্যকে কেন্দ্র করে করা হয়েছিল এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে পোস্টটির কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবে তিনি নিজে মন্তব্যে অংশ নিয়ে নারীদের উদ্দেশে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে যারা তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন, তাদের কয়েকজনকেও একই ধরনের অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, এক ভুক্তভোগী সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর বিষয়টি নিয়ে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মধ্যস্থতাকারী হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর সম্পাদক। সে তার এই পাওয়ার ব্যবহার করে ভিক্টিমকে বিভিন্ন রকমের হুমকি দিয়েছে। পুলিশও এখন নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। ভিক্টিম এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ছাত্রদলের ওই নেতার হস্তক্ষেপের পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্টে চারজন নারীর কাছে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তবে ওই পোস্টে কী ঘটেছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পরে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্তব্যের সুযোগ সীমিত করা হয় এবং একপর্যায়ে পোস্টটি মুছে ফেলা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে একজন ছেলে যোগাযোগ করে এবিষয়ে অবগত করেছে বলে জানা যায়৷ সেই ছেলের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সমস্ত ঘটনাটি সম্পর্কে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তারিত বলা আছে। আমরা একটি জিডিও করেছিলাম। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেটা প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। যেহেতু অলরেডি ছাত্রদলের হস্তক্ষেপ চলে এসেছে সেটা কোথায় গিয়ে থামে তার কোনো নিশ্চয়তা নাই। একটি ছেলে তাকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পরিচয় দিয়ে এবিষয়টি শেষ করার কথা বলেছে।


তিনি আরও বলেন, আমার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করে এবিষয়ে জানিয়েছি।


তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদকের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, আমার সাথে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে যোগাযোগ করেছে। তারা কিছু স্ক্রিনশট পাঠিয়েছে। তবে ফর্মালি অভিযোগ করেনি। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 


ঘটনার পর ভুক্তভোগী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, লোকপ্রশাসন বিভাগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ছাত্রসংগঠন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, প্রকাশ্যে নারীদের অপমান, অবমাননাকর মন্তব্য এবং পরে দায় এড়ানোর চেষ্টা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রকাশ্যে থাকা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিচার চেয়েছেন তারা। 


এ বিষয়ে ফসবুকে তানিম সাহা নামে শিক্ষার্থী লিখেন, "এভাবে প্রকাশ্যে অনলাইনে মেয়েদের  স্লাট শেইমিং করা কি শোভনীয়? তিনি আবার ভার্সিটির পরিচয় দিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে বোঝাতে চাচ্ছেন যে কুবিতে এগুলো খুবই নরমাল,কেউ কিছু করতে পারবে না। একই সাথে তিনি ভিসি স্যারের কাছে অভিযোগ দেয়ার কথা বলে বুঝাতে চেয়েছেন তিনি প্রশাসনের উর্ধে। তার এমন বিরুপ আচরণের প্রভাব  আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়,বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের উপরও পড়বে। প্রশাসনকে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আহবান করছি।"


একই বিষয়ে মোহাম্মদ লাবিব ফেসবুকে লিখেন, 'As a student of CoU, I harshly condemn this type of activity!  যদিও এর পলিটিকাল পরিচয় মোটামুটি জানা,তবে "প্রশাসনের কাছে যান!বিচার দেন!" - এত পাওয়ারফুল হইলো কবে থেইকা?! হইতেও পারে,৫০ একরে সবই সম্ভব!'


অভিযুক্ত শিক্ষার্থী প্লাবন আহমেদ বলেন, আমি স্বীকার করেছি যে আমার ভুল হয়েছে। আমি একাধিকবার তাদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছি। তখন অনেক অপরিচিত নাম্বার থেকে কল দিয়ে আমাকে থ্রেট দেয়া হয় যে আমার বাড়িতে হামলা করবে। পিএম এর অফিসের সাথে তাদের যোগাযোগ আছে। তারা বিষয়টি নিয়ে থানায় গিয়েছে। ঈশ্বরদী থানার এসআই আমাকে কল দিয়ে আমার এনআইডি কার্ডের ছবি পাঠিয়ে আমাকে এবিষয়ে জিজ্ঞেস করেছে। তারা আমার এনআইডি কার্ডও বের করেছে। তখন আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদককে বলি এটা সমাধান করা দেয়ার জন্য। আমি ক্ষমা চেয়েছি কিন্তু তারা যে আমাকে রেপিস্ট বলেছে সেটার জন্য তারা ক্ষমা চায়নি। এখন তারা ফেসবুকেও পোস্ট দিয়েছে।

১ দিন আগে সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন