মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শহীদ ওসমান হাদি হলে আবাসিক শৃঙ্খলা, পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নেওয়া একাধিক প্রশাসনিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া এসব পদক্ষেপে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইশতিয়াক আহমেদ তালুকদার প্রশংসিত হলেও কিছু শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সুবিধা ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তৈরি হয়েছে অসন্তোষ।
সম্প্রতি জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে রিডিং রুমে দীর্ঘ সময় বই-খাতা বা ব্যক্তিগত সামগ্রী রেখে ‘আসন দখল’ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে হল প্রশাসন। নির্দেশনায় বলা হয়, রিডিং রুম ত্যাগের সময় ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে; অন্যথায় প্রশাসন তা সরিয়ে নেওয়ার অধিকার রাখবে। পাশাপাশি রাত ১২টার মধ্যে রিডিং রুম ত্যাগ করার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং বিশেষ অনুমতি ছাড়া সেখানে রাতযাপন নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে রাত ১০টার পর ডাইনিং ও রান্নাঘর তালাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসব উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন হলের অধিকাংশ আবাসিক শিক্ষার্থী। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা ব্যক্তিকেন্দ্রিক আসন দখলের সংস্কৃতি ভাঙায় এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ তৈরি হবে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পদক্ষেপটিও আবাসিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা।
তবে এই কড়াকড়ির বিরুদ্ধে হলের একাংশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, অনিয়ম বন্ধ হওয়া এবং দীর্ঘদিনের ব্যক্তিকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ন্ত্রণে আসায় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু শিক্ষার্থী প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণদের আবাসিক সুবিধা নিয়ে তৈরি হওয়া শঙ্কা থেকেও এই মতবিরোধ উসকে দেওয়া হতে পারে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, সুযোগ-সুবিধা কারো একক অধিকার নয়। ব্যক্তিগত সুবিধা ক্ষুণ্ণ হওয়ার অজুহাতে শৃঙ্খলার উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত না করে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা উচিত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বিতর্ক এড়িয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ও সমতাভিত্তিক এ পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন দৃঢ় থাকবে।
১ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬