Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক

কেন মায়ের পরিচয় গোপন রাখেন কিম জং উন?

ডেস্ক রিপোর্ট:
৬ ঘন্টা আগে রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬
# ফাইল ফটো


উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে ঘিরে থাকা শত রহস্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোপন বিষয়টি হলো তার মায়ের পরিচয়। গত ১৫ বছরের শাসনামলে কিম একবারও জনসমক্ষে নিজের মায়ের নাম উচ্চারণ করেননি।


উত্তর কোরিয়ার কট্টর সমাজব্যবস্থায় এই পরিচয় প্রকাশ পাওয়া খোদ কিম রাজবংশের টিকে থাকার জন্যই এক বিরাট হুমকি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিবিসি-র প্রতিবেদন।


উত্তর কোরিয়ার একনায়কতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো ‘মাউন্ট প্যাকতু’ বা প্যাকতু পর্বতের পবিত্র রক্তধারা। দেশটির পৌরাণিক বিশ্বাস ও প্রচারণায় বলা হয়, এই বংশধারা সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। কিম জং উন কোনো বড় অর্জন ছাড়াই কেবল এই বংশপরিচয়ের কারণে তরুণ বয়সে ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন।


তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিমের মা কো ইয়ং হুই উত্তর কোরিয়ার পবিত্র মাটির কেউ ছিলেন না। ১৯৫২ সালে তিনি জাপানের ওসাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা ছিলেন বর্তমান দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের বাসিন্দা।


১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের সময় তারা জাপানে চলে যান এবং সেখানে ‘জাইনিচি কোরিয়ান’ (জাপানের বাসিন্দা কোরীয়) হিসেবে পরিচিত হন।


কো ইয়ং হুই-এর বয়স যখন ১০ বছর, তখন একটি পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রলোভনে তার পরিবার উত্তর কোরিয়ায় চলে আসে। উত্তর কোরিয়ার কঠোর সামাজিক শ্রেণীবিভাগে এই ধরনের ফিরে আসা অভিবাসীদের ‘জ্যায়েপো’ বা বিদেশি মতাদর্শে কলুষিত দল হিসেবে নিচু চোখে দেখা হতো। এরা সব সময় কড়া নজরদারিতে থাকতেন এবং ভালো চাকরি বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতেন না। শাসকগোষ্ঠীর নিয়ম অনুযায়ী, একজন ‘জ্যায়েপো’র সন্তান দেশের সর্বোচ্চ নেতা হওয়া সম্পূর্ণ অকল্পনীয়।


তবে নিজের রূপ ও নৃত্য দক্ষতার কারণে কো দেশটির তৎকালীন নেতা কিম জং ইলের নজর কাড়েন। কিম জং ইল তার প্রেমে পড়েন এবং তাদের ঘরে তিনটি সন্তান (যার মধ্যে কিম জং উন একজন) জন্ম নেয়। তবে উত্তর কোরিয়ায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বড় সামাজিক কলঙ্ক হওয়ায় কো এবং তার সন্তানদের রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে দূরে ওনসান শহরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কিম জং ইলের বাবা ও দেশের প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং বেঁচে থাকাকালীন কো-কে কখনোই পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দেননি।


২০০৪ সালে প্যারিসের একটি হাসপাতালে স্তন ক্যান্সারে মারা যান কো। তার মৃত্যুর পর এবং কিম জং ইলের অন্য উপপত্নীদের সন্তানদের নানা বিতর্কের কারণে কিম জং উনের ভাগ্য খুলে যায়। কিমের সৎ বড় ভাই কিম জং নাম বিলাসবহুল জীবন এবং সরকারবিরোধী মতামতের কারণে উত্তরাধিকার থেকে বাদ পড়েন (যিনি পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ায় বিষপ্রয়োগে নিহত হন)। মেজো ভাই কিম জং চুল তীব্র আফিম আসক্তির কারণে বাদ পড়েন। ফলে কিম জং উন ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতার শীর্ষে বসেন।


কিম জং উন তার বোন কিম ইয়ো জং-কে ক্ষমতার বড় দায়িত্ব দিলেও, নিজের মায়ের পরিচয় আড়াল করতে সবসময় সচেষ্ট থাকেন। এমনকি তার নিজের জন্মদিনকেও জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করা হয় না, কারণ তা করলে তার শৈশব ও মায়ের ইতিহাস সামনে চলে আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মায়ের নিচু সামাজিক শ্রেণির ঘাটতি ঢাকতেই কিম জং উন ক্ষমতার পরপরই দ্রুত নিজের স্ত্রী রি সোল জু ও কন্যা জু এ-কে জনসমক্ষে নিয়ে আসেন, যা উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে বিরল। উত্তর কোরিয়ার সাবেক কূটনীতিক রিউ হিউন-উ তার এক বইয়ে লিখেছেন, ‘যদি কখনো প্রকাশ পায় যে কিমের মা জাপানে বসবাসকারী নিচু শ্রেণির কোরিয়ান ছিলেন, তবে তা দেশটির বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থাকে গোড়া থেকে নাড়িয়ে দেবে। উত্তর কোরিয়ার সমাজের ওপর এর প্রভাব হবে একটি পারমাণবিক বোমার মতো।’

৬ ঘন্টা আগে রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন