Daily Bangladesh Mirror

ঢাকা, শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

লিড নিউজ

বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
১ দিন আগে শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬
# ফাইল ফটো



যুক্তরাষ্ট্র তাদের কয়েকটি বড় বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের নামও রয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি আইনের অধীনে এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশের ওপর চলতি গ্রীষ্মের মধ্যেই নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, তদন্তে যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারবে।

গ্রিয়ার আরও জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন যে অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিল, তা জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই এই তদন্ত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই তদন্তের আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের মতো দেশও রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডাকে এই তদন্তের তালিকায় রাখা হয়নি।

কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয় যে, গত বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা অবৈধ।

রায়ের পর ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং আদালতের ওই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়াবহ’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি তার বাণিজ্যনীতি বাতিল করা বিচারকদেরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা বিষয়ক আইন প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত আইন ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

রায়ে আরও বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের হাতে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, প্রেসিডেন্টকে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন থাকতে হবে।

গত বছরের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন। এরপর বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, যেখানে শুল্কের হার কিছুটা কমানোসহ বিভিন্ন বাণিজ্য বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে আদালতের রায়ের পর এসব চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুল্কের বিষয়টি পরিবর্তন হলেও বাণিজ্য চুক্তিগুলো বাতিল করা হচ্ছে না।

এরই মধ্যে আবারও ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প এবং সেটি ১৫ শতাংশে বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন।

এদিকে, এই সপ্তাহের শেষে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আলোচনার ভিত্তিতে মার্চের শেষ দিকে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের পথ তৈরি হতে পারে।

১ দিন আগে শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন