আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের পর আজ শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদসচিব আরো বলেন, আইন অনুযায়ী আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির
মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।তিনি আরো বলেন, এই শপথ গ্রহণ আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি তিন দিন, সর্বোচ্চ গেলে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। আমরা এমনটাই আশা করছি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ২৯৭টি আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম উল্লেখ করে গেজেট প্রকাশ করেছে। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হয়। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে, অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন। এরপর সংসদীয় দলীয় নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।
শপথ গ্রহণের প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, সরকার যেকোনো সময়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, যদি আগামীকাল বা পরশুও শপথের নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে আমাদের সেই প্রস্তুতি আছে। আমরা অনুমান করছি আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হবে, কারণ এর পরই পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে।
বর্তমানে যেহেতু স্পিকার নাই ও ডেপুটি স্পিকার নাই—এই পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব সাংবাদিকদের বলেন, এটি হ্যান্ডল করে সংসদ সচিবালয়। ওখানে কথা বলতে হবে।
এখানে নানা রকমের অপশন আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বা তাদের মনোনীত কেউ এটা করাতে (শপথ) পারেন। তারা যদি কোনো মনোনয়ন না দিতে পারেন তাহলে সরকার থেকে কাউকে মনোনয়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তবে এই দায়িত্বটা আমাদের নয়।
তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমেও শপথ পড়ানোর বিকল্প পথ খোলা আছে। তবে বিষয়টি সংসদ সচিবালয় হ্যান্ডল করবে।
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব আরো জানান, বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় এক হাজার অতিথিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে নতুন মন্ত্রিসভায় কতজন সদস্য থাকছেন, তা নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর একান্ত এখতিয়ার বলে তিনি জানান।
৯ ঘন্টা আগে শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬
